You are currently viewing গুগল অ্যালগরিদম আপডেট | Top 5 google algorithm updates Bangla

এই আর্টিকেলে আমরা ৫ টি গুগল অ্যালগরিদম আপডেট নিয়ে আলোচনা করেছি। কিছু মৌলিক বিষয় জানতে পারবেন। আপনার কিছু ভ্রান্ত ধারণাও দূর হবে।

অনেকেবারই হয়তো এমন হয়েছে যখন আপনি এস ই ও সম্পর্কিত কোনো ব্লগ বা ভিডিও থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করেছেন। তখন কিছুটা হলেও চিন্তা করেছেন যে তথ্যটি সঠিক নাকি ভুল। অনেকেবার মনে হয়েছে তথ্যটি ভুল। কিন্তু আপনি কারণ জানেন না।

আপনার কাজ এস ই ও করা, ইতিহাস মনে রাখা নয়। যাই হোক। এই আর্টিকেলে আমরা যেসকল গুগল অ্যালগরিদম আপডেট নিয়ে আলোচনা করবো সেগুলো অনেক ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে সাহায্য করবে। আসল ব্যাপারটা কী, সঠিক উপায় কী তা বুঝতে পারবেন।

প্রধান ৫ টি গুগল অ্যালগরিদম আপডেট

  1. পান্ডা আপডেট
  2. পেঙ্গুইন
  3. পেইজ লেআউট
  4. হামিংবার্ড
  5. রাংকব্রেইন

অনেকের মনে হতে পারে এটা চিড়িয়াখানার প্রাণীদের নাম এর তালিকা। কিন্তু আসলে এগুলো প্রধান ৫ টি গুগল অ্যালগরিদম আপডেট।

পান্ডা গুগল অ্যালগরিদম আপডেট

ছোট, খারাপ কোয়ালিটির কন্টেন্ট যুক্ত ওয়েবসাইট গুলো থেকে সার্চ রেজাল্টকে মুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ২০১১ সালে পান্ডা আপডেট চালু করা হয়েছিল। সেসময় কন্টেন্ট ফার্ম ব্যবহার করা একটি সাধারণ ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কন্টেন্টকে স্পিন করে বা পরিবর্তন করার জন্য বিভিন্ন স্পিনার টুলস, সফ্টওয়ার কিছু ওয়েবসাইটে ছিল।

এই সকল টুলস কনটেন্ট এর বিভিন্ন শব্দের সমার্থক শব্দ দিয়ে প্রতিটি শব্দ প্রতিস্থাপন করতো। এগুলোকে বলা যেতে পারে আধারে সঞ্চিত অকেজো তথ্য। এইরকম কন্টেন্টগুলোতে কীওয়ার্ডগুলোকে কারণ ছাড়াই বার বার ব্যবহার করা হতো। এগুলো পাঠকদের পড়ার জন্য ছিল না। এই কন্টেন্ট গুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল সার্চ ইঞ্জিনে কারচুপি করা।

পান্ডা আপডেট এইসকল খারাপ কোয়ালিটির কন্টেন্টযুক্ত ওয়েবসাইটগুলোকে সার্চ রেসাল্ট এ র‌্যাঙ্কিং এ নিচে নামিয়ে দিয়েছে।

সেসকল ওয়েবসাইট এই পানিশমেন্ট থেকে বাঁচতে পেরেছিল যেগুলো লো কোয়ালিটি কন্টেন্ট সরিয়ে ভালো মানের কন্টেন্ট দিয়ে ওয়েবসাইটকে তথ্যবহুল করতে পেরেছিল।

তবে পান্ডা আপডেট কোন ওয়ান টাইম অ্যাকশন ছিল না। পরবর্তীতে এই আপডেটকে গুগলের আসল অ্যালগরিদমের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলা হয়েছিলো।

এজন্য এখন যদি আপনি কোনো ওয়েবসাইট থেকে কন্টেন্ট নিয়ে এর বিভিন্ন শব্দকে সমার্থক শব্দ দিয়ে রিপ্লেস করেও ব্লগ পোস্ট লিখেন তাতেও আপনার লিখা গুগলের সার্চ রেসাল্ট এ আসবে না। যদিও আসে তাহলে তা ক্ষণস্থায়ী সময়ের জন্য।

পেঙ্গুইন গুগল অ্যালগরিদম আপডেট

দ্বিতীয় আপডেট হলো পেঙ্গুইন। পেঙ্গুইন আপডেট ২০১২ সালে চালু করা হয়েছিল। পেঙ্গুইন আপডেট এর মাধ্যমে গুগল খারাপ, স্পামি, অপ্রাসঙ্গিক, অতিরিক্ত অপ্টিমাইজড আঙ্কোর টেক্সট যুক্ত ব্যাকলিংক ব্যাবহারকারী ওয়েবসাইটগুলোকে র‌্যাঙ্কিং এ নিচে নামিয়ে দিয়েছে।

সার্চ রেজাল্টকে হেরফের করার দুইটি অংশ এর প্রথমটি ছিল স্পামি কন্টেন্ট আর দ্বিতীয়টি হলো স্পামি ব্যাকলিংক। এই আপডেটের মাধ্যমে গুগল স্পামি ব্যাকলিংক যুক্ত ওয়েবসাইটগুলোর র‌্যাঙ্কিং নামিয়ে দিয়েছে।

পেঙ্গুইন আপডেটের মূল কাজ শুধু স্পামি ব্যাকলিংকযুক্ত ওয়েবপেইজগুলোকে খুঁজে বের করে সেগুলোকে রাংকিংয়ে নিচে নিয়ে যাওয়াই ছিল না। ব্যাকলিংকের কোয়ালিটি বৃদ্ধি এবং এর প্রভাব কে কমানোও ছিলো এর উদ্দেশ্য।

পান্ডা আপডেটের মাধ্যমে গুগল স্পামি কন্টেন্টযুক্ত ওয়েবসাইটগুলোর র‌্যাঙ্কিং নামিয়ে দিয়েছে। পেঙ্গুইন আপডেট আসবার পূর্বে কোনো ওয়েবসাইটের র‌্যাঙ্কিং এর পেছনে ব্যাকলিংক অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। এই আপডেটের মাধ্যমে স্পামি ব্যাকলিংক তৈরির জন্য ব্যাবহৃত ওয়েবসাইটগুলোর র‌্যাঙ্কিং কমিয়ে দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি র‌্যাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে ব্যাকলিংক এর ভূমিকা কমিয়ে কিছু আপডেট আনা হয়েছিল।

পেঙ্গুইন আপডেট এর এখন পর্যন্ত চারটি আপগ্রেড প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে এই আপডেট গুগল কোর আলগোরিদম এর অংশ হয়ে গিয়েছে।

বর্তমান সময় গুগল ব্যাকলিংকের সংখ্যাকে তেমন গুরুত্ত দেয় না। ব্যাকলিংকের কোয়ালিটিকে তারা বেশী গুরুত্ত দেয়। এক্ষেত্রে তারা লক্ষ্য করে,

লিংক দেয়া ওয়েবসাইটের প্রোফাইল কেমন এবং ব্যাকলিংকটি কোন পজিশনে আছে, দুইটি ওয়েবসাইট প্রাসঙ্গিক কিনা, আঙ্কোর টেক্সট কতটা প্রাসঙ্গিক, এই রকম কিছু বিষয়কে গুরুত্ত দেয়া উচিত। এগুলো একটি ব্যাকলিংকের কোয়ালিটিকে নির্ধারণ করে থাকে।

পেঙ্গুইন আপডেটের মাধ্যমে গুগল স্পামি ব্যাকলিংক যুক্ত ওয়েবসাইটগুলোর র‌্যাঙ্কিং নামিয়ে দিয়েছে।

পেইজ লেআউট গুগল অ্যালগরিদম আপডেট

২০১২ সালে পেইজ লেআউট আলগোরিদম প্রকাশ করা হয়েছিল। এই আলগোরিদম এর মাধ্যমে গুগল সেসকল ওয়েবসাইট এর র‌্যাঙ্কিং নামিয়ে দিয়েছে যেগুলোর এবোভ দা ফোল্ড অংশে অনেক বেশি সংখ্যক বিজ্ঞাপন ছিল অথবা প্রয়োজনীয় কন্টেন্ট ছিল না।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে ওয়েবসাইটের এবোভ দা ফোল্ড কন্টেন্টের অংশ কতটুকু? যখন কোনো ডিভাইস এ একটি ওয়েবসাইট লোড হয় তখন যে অংশটুকু ডিভাইস এর স্ক্রিনে প্রথম দেখা যায় সেই অংশটুকুকে বলা হয় এবোভ দা ফোল্ড কন্টেন্ট।

এই পেইজটি অনেক লম্বা হতে পারে। তবে সম্পূর্ণ পেইজ একসাথে দেখা যায় না। স্ক্রল করে নিচের দিকের কন্টেন্ট পড়তে হয়।

এটি অনেকটা কাল্পনিক। এক এক ডিভাইস এর স্ক্রিনের আকার এক এক রকম হয়। এজন্য আপনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না যে কোন অংশটুকু এবোভ দা ফোল্ড অংশে থাকবে।

তবে আপনার একটি আনুমানিক ধারণা হয়ে যাবে। এজন্য ভালো হবে আপনি যদি ওয়েবসাইটটিকে ভিন্ন ভিন্ন ডিভাইস এ ওপেন করে চেক করেন।

একটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল করা যেতে পারে। বেশিরভাগ ওয়েবসাইট মোবাইল বট এর মাধ্যমে ক্রল হয়। এজন্য আপনার ওয়েবসাইট এর মোবাইল ভার্সনের এবোভ দা ফোল্ড কনটেন্ট এর অংশটি চেক করাটাই বেশি ভালো হবে।

বেশিরভাগ ওয়েবসাইটে এবোভ দা ফোল্ড কনটেন্ট এর অংশটিতে স্লাইডশো কিংবা ফিচার্ড কন্টেন্ট হিসেবে কয়েকটি পোস্ট রাখা থাকে। এস ই ও এর দিক থেকে চিন্তা করলে এটিতে কোনো লাভ হয় না। তাই ওয়েবসাইটের এবোভ দা ফোল্ড কনটেন্ট এর অংশটিতে এমন কন্টেন্ট দেয়া উচিত যা পাঠককে সাহায্য করবে, তার প্রশ্নের সমাধান দিবে।

হামিংবার্ড গুগল অ্যালগরিদম আপডেট

হামিংবার্ড আপডেট ২০১৩ তে প্রকাশ করা হয়েছিল। কিওয়ার্ড স্টাফিং এবং কন্টেন্ট এর কোয়ালিটিকে ইম্প্রোভ রাখতে এই আপডেটটি আনা হয়েছিল। এটি গুগল সার্চ ইঞ্জিনে হওয়া একটি বড় পরিবর্তন ছিল। এটি সার্চ ইঞ্জিনের স্পিড এবং ফলাফলের কোয়ালিটিকে উন্নত করেছিল।

এই আপডেটের মাধ্যমে একটি ওয়েবপেইজে কোনো একটি কিওয়ার্ড আছে কিনা কিংবা কয় বার আছে এসকল প্রভাবকে কমিয়ে দিয়েছিল।

এরকম পেইজগুলো তখন র‌্যাঙ্কিংয়ে আসা শুরু করেছিল যেগুলোতে স্পেসিফিক কিওয়ার্ডটি নেই, কিন্তু ওই কিওয়ার্ডের তথ্য ব্যাবহারকারীর প্রশ্ন অনুযায়ী উপস্থাপন করা আছে।

ওভার এস ই ও অপটিমাইজড পেইজ এর এফেক্টকে কমিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিওয়ার্ড ডেনসিটি নামক যে ব্রিভান্তিকর বিষয় সবার সামনে বার বার নিয়ে আসা হচ্ছে , এই আপডেট তা পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে। আসলে কিওয়ার্ড ডেনসিটি এর কোনো মূল্য নেই। মূল্যবান হলো যিনি সার্চ করছেন তার সার্চ করার উদ্দেশ্য।

র‍্যাঙ্কব্রেইন গুগল অ্যালগরিদম আপডেট

র‍্যাঙ্কব্রেইন ২০১৫ সালে প্রকাশ করা গুগল অ্যালগরিদম আপডেট ছিল। র‍্যাঙ্কব্রেইন গুগলকে সেই জিজ্ঞাসা গুলো এর সমাধান দিতে সহায়তা করে যেগুলো প্রথমে কখনও করা হয় নি।

এটি একটি মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম যেটি ইতিমধ্যে থাকা ডেটার উপর ভিত্তি করে সিস্টেমকে এটি বুঝতে সাহায্য করে যে এই নতুন অনুসন্ধান বা প্রশ্ন যেটি কখনো করা হয় নি এটির অর্থ এবং উদ্দেশ্য কী।

র‍্যাঙ্কব্রেইন গুগলের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ র‌্যাঙ্কিং সিগনালগুলির মধ্যে একটি। র‍্যাঙ্কব্রেইন অ্যালগরিদমের কাজ করার পদ্ধতি গুগল এখনো পাবলিকের কাছে প্রকাশ করে নি।

তবে গুগলে সার্চ করা ১৫% জিজ্ঞাসা একদম নতুন হয়। এগুলো বুঝতে র‍্যাঙ্কব্রেইন গুগলকে সাহায্য করে থাকে। তাহলে আপনি বুঝতেই পারছেন এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

এই ছিল পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ গুগল অ্যালগরিদম আপডেট। যেগুলো গুগল সার্চ ইঞ্জিনে বিভিন্নসময় সার্চ রেসাল্টকে উন্নত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল।

Monjirul

I am passionate about content publishing in Blogger and WordPress. I am working on many blogs. But Travel Nature Exhibition is my favorite one. The website address is travelnature.info

Leave a Reply